ভিডিতে ছাত্রী লাঞ্ছিতের ঘটনা নিয়ে তোলপাড়

Sharing

নিজস্ব প্রতিনিধি

হবিগঞ্জ: নারী ও শিশু নির্যাতনের রেশ কাটতে না কাটেতে আরেকটি ঘটনা আলোড়ন ফেলেছে হবিগঞ্জে। শহরের মোবাইলে মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছে এক ছাত্রীকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিতের ঘটনার ভিডিও।

জানা গেছে, নির্যাতিতা ছাত্রী হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাছরিন আক্তার অর্ণা। সে রাজনগর এতিম খানা সড়কের ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান মিয়ার মেয়ে।

আর ওই ছাত্রীকে নির্যাতকারী বখাটে হলেন- একই এলাকার ফজল মিয়ার ছেলে রুহুল আমিন।

এ ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। রুহুলকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবিতে শুক্রবার শহরে মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। সকারে সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে মানববন্ধন হবে।

স্থানীয়রা জানায়, তাছরিন আক্তার অর্ণাকে দীর্ঘদিন উত্যক্ত করে আসছিলেন একই এলাকার ফজল মিয়ার ছেলে রুহুল আমিন। মৌখিকভাবে নিষেধ করার পরেও থামেনি রুহুল।

পরে রুহুল আমিনের অভিভাবকদের বিষয়টি জানান অর্ণার বাবা শাহজাহান। কিন্তু রুহুলের অভিভাবকরা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এতে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন রুহুল।

এরই মাঝে অর্ণার বান্ধবীর ভাইয়েরা মিলে রুহুল আমিনকে মারধর করে। এতে আরো ক্ষিপ্ত হন রুহুল আমিন। গত ২৬ আগস্ট স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অর্ণাকে প্রকাশ্যে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে বখাটে রুহুল আমিন।

ঘটনাটি জানার পর মেয়ের মান-সম্মানের কথা চিন্তা করে বিষয়টি চেপে যান অর্ণার অভিভাবকরা।

তবে গতকাল বৃহস্পতিবার ওই মারধর ও শ্লীলতাহানির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হলে সর্বত্র শুরু হয় তোলপাড়।

ধারণা করা হচ্ছে, মারধরের সময় বখাটে রুহুল আমিনের পরামর্শে তার সহযোগীরা ঘটনার দৃশ্যটি মোবাইলে ধারণ করে। পরে তা ফেসবুকে ছেড়ে দেয়।

৩১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, বখাটে রুহুল আমিন স্কুলের গেইটের সামনে অর্ণার গতিরোধ করে তাকে অন্যান্য ছাত্রীদের সামনে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পর দিচ্ছে। পাশাপাশি হাত-পা কেটে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।

ভিডিও চিত্রটি প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয় সর্বত্র। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। বখাটে রুহুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষ।

ঘটনার শিকার অর্ণার মা ঝরণা বেগম ও বাবা শাহজাহান মিয়া সাংবাদিকদের কাছে বখাটে রুহুল আমিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এ বিষয়ে তারা আইনের আশ্রয় নিবেন বলেও জানান।

হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা উচিত।’

হবিগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি শোনার পরপরই বখাটে রুহুল আমিনকে আটকে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তাকে আটক করা যায়নি। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

Sharing