“বাবা আমার স্বপ্নের নায়ক” প্রবাসী মিজানের নিজের লিখা

Sharing

অন্যকন্ঠ: বাবা কে নিয়ে কখনই আমার লিখার ইচ্ছে হইনি বাবা তো বাবাই তার কোনো তুলনা হয় না হয় না। কিন্তু আজ কিছু না লিখলে মনে হয় অপরাধ হয়ে যাবে।সেই ছোট বেলা থেকেই দেখে এসেছি আমার বাবা কতটা পরিশ্রমী, পরোপকারী,সৎ নিস্ঠাবান। কখনই দেখি নাই আজ পর্যন্ত কারো সাথে ঝগড়া বা রাগ করতে এতটাই ভালবাসেন তিনি মানুষ কে স্বার্থের কথা কখনই ভাবেন নি। আমি তার মত বাবার সন্তান হতে পেরে গর্বিত। চরম দারিদ্র্যতার মাঝেই বেড়ে ওঠেছে আমার বাবার জীবন, যদিও আমার দাদা – রা তত:কালীন অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছিল, কারার বংশ যেই বংশটাকে কিশোরগঞ্জ এর মানুষ এখনও এক নাম এ চিনে। কুসংস্কারাপন্ন মনোভাব, আর কিছু বোকামির জন্য সব কিছু হারিয়ে ফেলেছিল। আমার বাবা আমদের রাজার মত বড় করেছেন অভাব অনটন আমাদের কে স্পর্শ করেনি কখনও।
সব বাবারেই সপ্ন থাকে ফেমেলির বড় ছেলেটাকে নিয়ে, শহরের সব থেকে ভাল স্কুল এ পড়ানো,সব থেকে ভাল খাওনো ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার বেলাও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রাইমারী পাশ করার পড় কিশোরগঞ্জ গভ: বালক উচ্চ বিদ্যালয় আ্যডমিশন পরীক্ষা দেই সাথে আমার ফ্রেন্ড হ্রদয়, নাদিম আরো অনেকেই ছিল। এক্সাম এর পরের দিন খুব মনে পড়ে সেই দিন টার কথা নিজের চোখে দেখেছি খুন করতে,এখনও শিহরে উঠি জখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমি তাদের দেখে ফেলাতে আমাকেও তারা ফলো করে আমার বাসা তখন হারুয়া, ফিসারী রুট , গুরুদয়াল কলেজ এর পাশেই। আমি খুব ভয় পেতাম অই লোকটাকে প্রায় সময় আড্ডা দিত কলেজ এর সাথেই ক্যাম্বব্রীজ কোচিং সেন্টার সাথে রুবেল মামু দোকান এ আমাকে রাস্তায় ডেকে এনে একদিন বলছে তোর নাম কি বাসা কই আমি আমার বাসার ঠিকানা দিলাম, ঠিক ৩/৪ দিন পর রাত ২ তার দিক অই লোকটা আমার বাসার সামনে এসে ডাকতেছে জানালা দিয়ে মিজান বাসায় আছো,আমার আর বুজতে বাকি রইলো না, আমি বুজে ফেলেছি লোকটা আমাকেই মারতে আসছে এত রাতে।
আমি ভয় কাপতেছিলাম আর আল্লাহ কে ডাকছিলাম। কাউকে কিছু না বলে আমি আমার সব কিছু নিয়ে আমার গ্রামের বাড়িতে চলে যাই, পরে আব্বা কে সব খুলে বললাম আব্বাও আর আমাকে শহরে পরতে দিবে না সেইভ রাখতে চাইছে, বাবার সপ্ন টা শুরুতেই ভেঙে গেল শহরে আমার আর পড়া হল না, ভর্তি হলাম গ্রামের হাই স্কুল এ সেখান থেকে ৩:৫০ পেয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাশ করি। বাবার ইচ্ছে ছিল আমাকে ডাক্তার বানাবে তার সেই সপ্ন টা বুজি আমার আর পুরণ করা হবে না কারন আমার রেজাল্ট খারাপ হইছে (A+) পাই নাই তাই।
আমার বাবা চিন্তা করলো আমাকে ডাক্তার বানাতে পারবে না এখন কি করবে, আমার এক চাচী মা আছে শ্রদ্ধেয় তানভীর ভাই এর আম্মা যার কথা আব্বা শুনতো চাচীর পরামর্শ নিয়ে মেডিকেল টেকনোলজি ( ল্যাব মেডিসিন) সাবজেক্টে শ্রদ্ধেয় রবিন ভাই এর মাধ্যমে ঢাকাতে ভর্তি হই। এর মধ্য আমার লাইফে অনেক ঝড় বয়েগেছে সেই গুলার কথা মনে হলে খুব ই কস্ট লাগে! কোনো কিছু না করেও আমি দুষী ছিলাম, সমাজের চোখে আমাকে খারাপ বানানো হয়েছিল কারন আমি একটু সবার থেকে আলাদা ভাবে আলাদা স্টাইলে চলতাম আর অই জিনিস টা অনেকেই দেখতে পারতো না এমন কি আমার আব্বার সুনাম, ফেমেলির সুনাম টা যেন পলিটিক্যালি নস্ট হয় অনেক গেইম ই অনেক লোক জন খেলেছে কিন্তু পারেনি। আমার প্রতি আমার বাবার বিশ্বাস ছিল বিধায় কোনো বাধায় আমাকে আটকাতে পারিনি। আমার বাবার সপ্ন সম্পুন্ন পুরন করতে না পারলেও কিছু টা করেছি, ফাইনালি মেডিকেল টেকনোলজি পাশ করেছি, আমার রেজি ; নম্বর :১১৮০৫০
মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট হয়েছি, ঢাকার সুনাম ধন্য মেডিকেল কলেজ ( স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, মিটফোর্ট হসপিটাল আমার কাজের সার্টিফিকেট দিয়েছে)
আমার জিবনের গল্প টা সহজ হলেও সহজ না, কখনও খেয়ে আবার কখনও না খেয়ে সংগ্রাম করে ছিলাম বাবার মুখে একটু হাসি ফুটাবার জন্য । বাবার কস্টের কথা গুলো মনে হলে এখনও আমার চোখে জল গড়িয়ে পড়ে। মাস শেষে যখন টাকা পাঠানোর জন্য বাড়িতে ফোন দিতাম তখন আব্বা বলত বাবা আর কয়েক টা দিন পরে দেই আমার হাত এ এখনও টাকা মেনেজ হইনাই,আমার সেমিস্টার এর টাকা এক সাথে দিতে গিয়ে আমার মার শেষ সম্বল টাও বিক্রি করতে হয়েছিল। আমি ভুলব না মা তুমাকে আর বাবা কে তুমরাই আমার সত্তিকারের হিরেো। আমার এই জিবনে যত্তটুকু পাওয়া সব তুমাদের জন্য। সোনার চামচ মুখে জন্ম নেই নি তাতে কি, তুমাদের যে ভালবাসা আমি পেয়েছি আমার শরীরে এক ফোটা রক্ত থাকতে তুমাদের কখনও কস্ট করতে দিব না। তুমাদের সততা, আর ভালবাসা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।
ছোট বেলা থেকেই অসহায় গরিব মানুষ জন এর দু :খ আমি দেখতে পারতাম না তাই বিকেল বেলা যে সময়টা আমি পেতাম আমি মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়াম এর ৪ নং গেইট এ পথ শিশুদের পড়াতে যেতাম, মাঝে মাঝে বিনা মুল্যে ব্লাড ক্যাম্পিং করতাম। আমি এক জন সেচ্ছায় রক্ত দাতা।আমি অনেক বার মুমূর্ষু রুগীকে রক্ত দিয়েছি, আমি যার কাছ থেকে এই অনুপ্রেরণা টা পেতাম সে আমার ক্লোজ বন্ধু ইডেন কলেজ এর নুসরাত জাহান কলি যার সাথে পরিচত। না হলে মানবতা জিনিস টা শিখতে পারতাম না। তাই ধন্যবাদ আমার সেই সব ভাই বন্ধু, স্যারদের যারা আমাকে সব সময় সাপোর্ট দিয়েছে, শামীম, ওবায়দুল, আতিক, দেলোয়ার সাগর ভাই,মুশারফ ভাই,জিয়া ভাই,আলামিন, অন্তর,আলাউদ্দিন, হালিম ভাই ফরহাদ ভাই ডি আই আই,টি হাফসা, জান্নাত,জেনি , নাসরিন ইমরান ভাই, মুন্নি আপা, তাহমিনা আপা,তানভীর ভাই,মাহবুব ভাই,হাসান, চয়ন, সাগর, আরিফুল, হুজুর সহ সবাইকে। আরো অনেক ভাই বন্ধুরা আছেন যাদের নাম ম্যানশন করবো না তুমরা সবাই আমার অন্তরে আছো।
রাজনিতি আমার পছন্দ ছিল তাই পারিবারিক ভাবেই আমার বাবা কে দেখে রাজনিতি শিখেছি। আমি ঢাকায় থাকাকালীন ও অনেক প্রব্লেমও পড়েছি এই রাজনিতির জন্য তত:কালিন সময়ে ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর ছাত্র রাজনীতিতে এক্টিব হয়েছিলাম, ডাঃ এ জেড এম জাহিদ স্যার এর হাত ধরে।এমট্যাব এর সাথে ছিলাম, রউফ ভাই এর হাত ধরে। এই থেকেই আমার ছাত্ররাজনীতি শুরু এখন ছাত্রদল এর সাথে আছি, আমি দেশ এ ভাল জব করতাম পলিটিকাল কারনে আর কিছুটা ফেমেলির চাপ এ মালয়শিয়া অবস্তান করছি।
আমার ইচ্ছে খুব শিগ্রই আমি আমার দেশ এ ফিরে আসব, একটা ডায়গনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংক দিয়ে, মানবতা ও মানুষের সেবার মাঝে নিজেকে উৎসর্গ করে নিজের পেশায় ফিরে যাব, ফেমিলি আর রাজনিতিতে সময় দিব,সবাই আমার জন্য দুয়া করবেন। পরিশেষে দুনিয়ার সকল বাবা আর মা দীর্ঘায়ু কামনা করি।

Sharing