নির্বাচনের আগে অপপ্রচারে উসকানি না দিলেও পারতেন: কাদের

Sharing

সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নির্বাচনের আগে বই প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই সময়ে বইটি প্রকাশ করে সাবেক প্রধান বিচারপতি সরকারবিরোধী অপপ্রচারের উসকানি না দিলেও পারতেন।

শুক্রবার সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটসহ (বিআরটি) কয়েকটি প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে ওবায়দুল কাদের ওই সব কথা বলেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগ করা অনেক কঠিন হচ্ছে।

এ সময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আরিফুল ইসলাম, বিআরটির প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. সানাউল হক, সড়ক ও জনপথের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা জোন) আবদুস সবুর, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ঢাকা সার্কেল) মো. সবুজ উদ্দিন খান, গাজীপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিন রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক বিচারপতি এস কে সিনহার বই প্রকাশ প্রসঙ্গে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, তার লেখা বই তিনি প্রকাশ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে আমার শুধু একটাই প্রশ্ন, তা বিদেশের মাটিতে বসে কেন? আর নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন? বইটি আরও দুই-তিন মাস পরেও প্রকাশ করা যেত। বইটি এ সময়ে প্রকাশ করে সরকারবিরোধী অপপ্রচারের উসকানি তিনি না দিলেও পারতেন।

“সাবেক প্রধান বিচারপতি, তার মনে কষ্ট থাকতে পারে, জ্বালা থাকতে পারে, প্রধান বিচারপতি পদ থেকে তিনি নিজেই সরে গেছেন। এখন বিদেশে গিয়ে মনগড়া তথ্য দিয়ে তিনি সরকারবিরোধী মহলের অপপ্রচারের সুবিধার জন্য যদি এ সময় বইটি প্রকাশ করে থাকেন, তাহলে আমার মনে হয়, তিনি একজন প্রধান বিচারপতি ছিলেন, এখানে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়টি প্রশ্নচিহ্ন হয়ে ঝুলে থাকবে।”

গাজীপুরের সড়ককে কার্যকর রাখার কথা জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এই স্থান দিয়ে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে যানবাহন চলাচল করে। যেকোনো অবস্থায় গাজীপুরের রাস্তাকে কার্যকর রাখতে হবে। সেটা তার অগ্রাধিকারমূলক কাজ। গাজীপুরের রাস্তায় যেন যানজট না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে মেয়র, পুলিশ, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যক্রম চালাতে বলেন তিনি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কারও আতঙ্কিত, উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, একটা আইন, প্রায়োগিক বাস্তবটাই সবচেয়ে বড় কথা। ডিজিটাল ক্রাইমকে মোকাবিলা করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সেভাবেই আইনটি প্রয়োগ করা হবে।

যুক্তফ্রন্টকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন দল ও নেতাদের ঐক্য প্রক্রিয়া, যুক্তফ্রন্টকে সরকার স্বাগত জানায়। তারা সভা–সমাবেশেরও অনুমতি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পুলিশ কমিশনারকে। যারাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা করতে চান, তাদের অনুমতি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সামনে নির্বাচন, এখন দলে দলে ঐক্য হবে, নেতায় নেতায় ঐক্য হবে। তাতে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমাদের পক্ষে জনমত আছে।

Sharing