আমরা বেকার,অভিশিপ্ত ও হতাশাগ্রস্থ

Sharing

ইঞ্জি মোঃ এলাহান উদ্দিন

চাকুরী! আজকের দিনে সোনার হরিণ !
একজন চাকুরী প্রার্থী আজ হতাশাগ্রস্থ , অভিশিপ্ত পিতামাতা ও জাতির কাছে লজ্জিত ।
যে চাকুরীর জন্য কমপক্ষে ২০ বছরের বেশী লেখাপড়া করে নূন্যতম ২০ লাখেরও বেশী টাকা ইনভেস্ট করে দ্বারে দ্বারে আবার টাকা দিয়ে ব্যাংক ড্রাফট করে(নূন্যতম মাসে ৫ হাজার টাকা করে ) দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় । সেই ছেলে/মেয়েটি পরিবার, জাতি , সমাজের কাছে লজ্জিত,অপমানিত ।
তারা ভাল ছাত্র থেকে আজ বেকারের সঙ্গী ।
তারা কি এত বছর লেখাপড়া করে ‘ শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড ‘কে প্রমাণ করতে গিয়ে কোন পাপ করেছে ?
কেউ পরীক্ষায় টিকেউ, ভাইবায় মামা,খালু না থাকায় চাকুরী থেকে বঞ্চিত । শিক্ষা ও ব্যাংক ড্রাফট যেন আজ ভাল ব্যবসায় পরিনত হয়েছে ।
আমার দূঃখ লাগে আমার কিছু সহপাঠী ছিল তারা টাকার অভাবে দূর্গম শিক্ষার পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ঝড়ে পড়েছে । কারও বাবা,মা নেই সে মাস চলবে কিভাবে , সেই চিন্তায় চিন্তিত আবার সে শিক্ষার দূর্গম পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বেকার হবেন??
শ্রদ্ধেয় ড. ইউনুস সাহেব বলেছিলেন , শিক্ষাজীবন শেষে চাকরি খোঁজা হলো ‘আধুনিক দাসত্ব, ‘ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালো ডিগ্রি নিয়ে বেরিয়েই একজন শিক্ষার্থী বলছেন, আমাকে চাকরি দিন। কিন্তু এটা বলছেন না যে আমাকে ১০ হাজার ডলার দিন, আমি নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ে তুলব।”
বেশ বলছেন ড. ইউনুস সাহেব । কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে , সেই ১০ হাজার ডলার কে দেয়ার আস্থা রাখেন ? একজন শিক্ষার্থী এমনিতেই অভিশিপ্ত ,শিক্ষার কাছে প্রতারিত , তাকে কে দিবে ১০ হাজার ডলার ?কোন ব্যাংক , কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ??
আপনি কি করতে পেরেছেন, সাধারন শিক্ষার্থীদের জন্য ? শিক্ষার্থীরা কি লেখাপড়া বন্ধ করে টাকা দিয়ে আপনার মত সুদের সোশাল ব্যবসা শুরু করবেন ?
আমরা কোথায় দাড়াবো ? কোন জায়গায় ঠাই নেই ।
আমরা অভিশিপ্ত ,বাবা, মা ও জাতির কাছে লজ্জিত, কারন আমাদের বড় পরিচয়,আমরা বেকার । না পারি ভ্যান চালাতে ,না পারি মাঠে কাজ করতে ।এ থেকে পরিত্রান কি ?

Sharing