অন্ত:সত্ত্বা স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা : শালিশী বৈঠকে ৬ লক্ষ টাকা জরিমানা

Sharing

বিয়ের প্রলোভল দেখিয়ে স্কুল ছাত্রীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক করায় ঐ স্কুল ছাত্রী অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে। তাকে বিয়ে করতে বলায় ছেলে রাজী না হলে রাগে ক্ষোভে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ঐ ছাত্রী। ঐ দিনই এলাকার চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ৬ লক্ষ টাকা ছেলেকে জরিমানা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা জেলার ব্রা‏হ্মণপাড়া উপজেলার বড়ধুশিয়া গ্রামে।

সরেজমিন এলাকা ঘুরে জানা যায়, উপজেলার বড়ধুশিয়া (বড়বাড়ী) গ্রামের মৃত শহিদুর ইসলামের মেয়ে বড়ধুশিয়া হাইস্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী সোনিয়া আক্তার (১৬) এর সাথে একই বাড়ীর মীরাজ হোসেন (পীর) এর ছেলে কক্সবাজার বিজিবিতে কর্মরত এমদাদ হোসেন (৩০) এর ভালবাসার সম্পর্ক ছিল। ভালবাসা গভীর হবার কারনে তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক হয়ে যায়। এক পর্যায়ে সোনিয়া অন্ত:স্বত্ত্বা হয়ে পরে। তার মামী আছমা আক্তার পরপর দুইবার শারীরিক পরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। তারপর থেকে বিজিবিতে চাকুরীরত এমদাদকে বিয়ে করার জন্য সোনিয়া ও তার পরিবারের লোকজন চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে স্থানীয় ভাবে ২/৩ দফা আপোষ মিমাংসার জন্য তারিখ নির্ধারন করা হলেও তা মিমাংসা হয়নি। গত ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে এ বিষয় নিয়ে সোনিয়া তার প্রেমিক এমদাদকে মোবাইল ফোনে তাকে বিয়ে করার কথা বলে। এমদাদ রাজী না হলে সোনিয়া রাগে ক্ষোভে ঐ দিন দুপুর ১২টায় বসত ঘরের উত্তর কক্ষের দরজা বন্ধ করে ঘরের তীরের সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে থানার এসআই ফরহাদ হোসেন ও সঙ্গীয় ফোর্স লাশের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে। পরিবারের কারো কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে সোনিয়ার ভাই আকরাম হোসেন (২১) বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে। ঐ দিনই ঐ এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তবা আলী শাহিনের সভাপতিত্বে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে এক শালিশী বৈঠক সোনিয়ার বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আবদুর রাজ্জাক ভূইয়া সর্দার, মোঃ হোসেন ভূইয়া, শামীম মাহমুদ ভূইয়া মাষ্টার, হান্নান মাষ্টার, হাজী তাজুল ইসলাম ভূইয়া, সোনিয়ার মা জাহেনারা বেগম (জানু), ছেলের মা খোরশেদা বেগমসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ছেলেকে অভিযুক্ত করে ৬ লক্ষ টাকা জরিমানা করে ১ লক্ষ টাকা নগদ আদায় করে মেয়ের মায়ের হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়। ৬ লক্ষ টাকার মধ্যে মোট ৫ লক্ষ টাকা মেয়ের মাকে দেয়া হবে এবং এক লক্ষ টাকা আনুসাঙ্গিক খরচ হিসাবে দেখানো হয়েছে। আগামী ২০ তারিখ বাকী ৫ লক্ষ টাকা পরিশোধ করা হবে বলে ছেলের মা খোরশেদা বেগম এ প্রতিনিধিকে জানান। স্থানীয় চেয়ারম্যান মোস্তবা আলী শাহিন জরিমানার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Sharing